91184218_diseaseaz.png

মদ্যপানে আসক্তি ও অ্যালকোহলের অপব্যবহার

মদ্যপানের কারণে  মানসিক ও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্বেও যখন কোনো ব্যক্তি মদ্যপান চালিয়ে যেতে থাকেন তখন বলা হয় ঐ  ব্যক্তিটি মদ্যপানে আসক্ত।  কোনো ব্যক্তির মদ্যপানের অভ্যেস যখন সমস্যার সৃষ্টি করে তখন ঐ মদ্যপান ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। 

এই সমস্যাগুলো অ্যালকোহল পয়জনিং, লিভার সিরোসিস, কাজে অক্ষমতা, হিংসা ও ভাংচুর প্রবণতার মত বহু প্রকারের শারীরিক, মানসিক ও আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে।

মদ্যপানে আসক্তি কোনো লিঙ্গনির্ভর রোগ নয়। 

 

যাঁরা মদ্যপানে আসক্ত তাঁরা সাধারণত: :

  • মদ্যপান চালিয়ে যান, এমনকি এর কুপ্রভাব আছে জেনেও
  • এক একা মদ্যমদ্যপান করেন
  • মদ্যপান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে প্রতিকূল হয়ে ওঠেন
  • মদ্যপানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না
  • মদ্যপানের নানাবিধ যুক্তি খাড়া করেন
  • মদ্যপানের কারণে কাজ বা পড়াশুনোয় ফাঁকি
  • মদ্যপানের কারণে বিভিন্ন কাজকর্মে অংশ নিতে না পারা
  • দিনভর নেশায় মজে থাকতে মদ্যপান
  • কেউ মদ্যপানে বাধা দিলে হিংস্র হয়ে ওঠা

সঙ্গে, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, যাকে 'ব্ল্যাক আউট' বলে। যকৃতের সমস্যা ও হজম ক্ষমতা হ্রাসের কারণে মদ্যপায়ীদের খিদে সাধারণত কম হয় এবং প্রায়শই বুক জ্বালা ও বমিবমিভাব দেখা যায়।

সতর্কতার লক্ষণের মধ্যে পড়ে ''বেসামাল কথাবার্তা ও মদের দুর্গন্ধ''

বদমেজাজ, বিরক্তি ও অস্থিরতা হল ''ড্রাই ড্রাঙ্ক সিন্ড্রম''-র লক্ষণ। 
 

চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস জানতে পারেন।  ডাক্তার জিজ্ঞেস করতে পারেন পরিবারের অন্য কেউ মদ্যপান করেন বা করতেন কিনা।

যেসব পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যেতে পারে একজন মদ্যপ কিনা :

  • রক্তে এলকোহলের মাত্রা
  • সম্পূর্ণ রক্ত গণনা
  • যকৃতের সক্রিয়তা পরীক্ষা
  • রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের পরীক্ষা 

মদ্যপানের আসক্তি নির্ভর করছে একজন ব্যক্তি কতটা পরিমান মদ্যপান করেন তার উপর। পরবর্তী চিকিৎসার বিকল্পগুলোর মধ্যে পড়ে :

  • ডিটক্সিকেশন - এক্ষেত্রে, নিরাপদভাবে মদ্যপান ছাড়ার জন্য একজন ডাক্তার বা চিকিৎসকের সহায়তার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একটু একটু করে মদ্যপানের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া  হয় বা ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এবং প্রত্যাহার-লক্ষণগুলোকে কমানো হয়।
  • কাউন্সেলিং- এর মধ্যে পড়ে কগনেটিভ বিহেভেরাল থেরাপি (সি বি টি)-র মত সেল্ফ-হেল্প গ্রুপ ও টকিং থেরাপি। 
  • ওষুধ প্রয়োগ- দু'ধরণের ওষুধ যা কোনো ব্যক্তির মদ্যপানের অভ্যাসকে বন্ধ করতে পারে। প্রথম ধরণের ওষুধ প্রত্যাহার-লক্ষণগুলোকে কমায়।

সবচেয়ে পরিচিত ওষুধ হল ক্লডিয়াজাপোক্সাইড (লিব্রিয়াম)। অন্য একপ্রকারের ওষুধ যা মদ্যপানের ইচ্ছাকে কমাতে পারে। সাধারণ ওষুধগুলোর মধ্যে পড়ে একামপ্রোজেট ও ন্যালট্রেকক্সন। এই ওষুধগুলো গ্রহণের নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে ও সাধারণত ৬-১২ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। 

  • PUBLISHED DATE : Sep 18, 2015
  • PUBLISHED BY : NHP CC DC
  • CREATED / VALIDATED BY : NHP Admin
  • LAST UPDATED ON : Sep 18, 2015

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.