পৃষ্ঠব্রণ (অ্যানথ্রাক্স)

অ্যানথ্রাক্স একটি সংক্রামক জুনটিক রোগ (প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে) এটা প্রাথমিকভাবে তৃণভোজী প্রাণী, বিশেষ করে গবাদি পশু যেমন  ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া খচ্চর প্রভৃতির একটি রোগ। এই রোগ স্বাভাবিকভাবেই দূষিত মাটি এবং খাবারের মাধ্যমে তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে ; দূষিত মাংস, হাড়যুক্ত খাবার বা অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে মাংসাশী এবং সর্বভূক প্রাণীদের মধ্যে  ; এবং অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত মৃতদেহও খাওয়া থেকে বন্য প্রাণীদের মধ্যে  ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত প্রাণী ব্যাসিলি শরীর থেকে বার করে দেয় টার্মিনাল রক্তক্ষরণ মাধ্যমে বা মৃত্যুর পরে রক্ত ছড়িয়ে পড়লে। অ্যানথ্রাক্স স্পোর মাটির মধ্যে অনেক বছর ধরে বেঁচে থাকে।

 

মানুষের নিশ্চিতভাবে প্রাণী বা প্রাণীজাত উপাদান থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বাভাবিকভাবে এই রোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

 

অ্যানথ্রাক্স রোগের অস্তিত্ব বিশ্বের বহু অংশে দেখা যায় যেমন এশিয়া, দক্ষিন ইউরোপ, উপ-সাহেলিয়ান আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে। অ্যানথ্রাক্স  ম্যালিগন্যান্ট পসচুলা, ম্যালিগন্যান্ট ওডিমা, উলসটারস ডিজিজ, বা রাগপিকার্স ডিজিজ নামেও পরিচিত।

 

অ্যানথ্রাক্স দক্ষিন ভারতে এনজুটিক অবস্থায় (পশুদের একটি এলাকায় সাধারণত বর্তমান) দেখা যায়  কিন্তু ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে এর অনুপস্থিতিই  কমভাবে দেখা যায়। বিগত বছরগুলিতে অ্যানথ্রাক্স এর উপস্থিতি অন্ধ্র প্রদেশ, জম্মু কাশ্মীর, তামিলনাড়ু, উড়িষ্যা কর্ণাটক ইত্যাদি রাজ্য থেকেও পাওয়া গেছে।

 

ভারতবর্ষের সুসংহত রোগ নজরদারি কর্মসূচি (ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভেইল্যান্স প্রোগ্রাম), ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এন সি ডি সি), দিল্লি২০১৪ সালে   ভারতে ৬টি অ্যানথ্রাক্স প্রাদুর্ভাবের তথ্য দিয়েছে।

 

জৈব সন্ত্রাসবাদ এবং অ্যানথ্রাক্স:

 

 অ্যানথ্রাক্সকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যুদ্ধের এজেন্ট বলে মনে করা হয় কারণ :

 

. এটা অত্যন্ত মারাত্মক শ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় যা প্রায় সবসময় মারাত্মক,

 

. অ্যানথ্রাক্স স্পোর কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে এবং সহজেই খুব কম খরচে বেশী পরিমাণে উৎপাদন করা যায়, এবং

 

. এটিকে সহজেই অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যায় এবং একটি গন্ধহীন এবং অদৃশ্য বায়ু স্প্রে (এরোসল) হিসাবে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে দেওয়া সহজ যা একই সময়ে হাজার হাজার মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

 

 

তথ্যসূত্র- HTTP: //link.springer.com/article/10.1007/BF02723777

 (Datta KK. Singh Jagvir, Anthrax, Indian J Pedlatr 2002; 69 (1) : 49-56)

                  http://www.who.int/csr/disease/Anthrax/anthraxfaq/en/

                  http://www.cdc.gov/anthrax/

                  http://www.ncdc.gov.in/writereaddata/linkimages/Newsltr0320156655589079.pdf

 

অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ তিন ধরনে ঘটে : সরবরাহের ধরনের উপর নির্ভর করে ত্বক , শ্বসন এবং পাচননালীতে (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল) সংক্রমণ। ত্বক অ্যানথ্রাক্স বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ কবলিত এলাকায় ঘটে।

 

চর্ম বা ত্বক, এই ধরনের অ্যানথ্রাক্স সবচেয়ে সাধারণভাবে পাওয়া যায়। একজন লোকের ত্বক বা চমড়া কাটা থাকলে সেখানে সরাসরি এটি যুক্ত হয়ে যায়  যেমন কেটে যাওয়া বা ঘষে যাওয়া অংশ, অ্যানথ্রাক্স স্পোর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে আসে। ফলে ফাটা অংশ আচমকা দ্রুত একটি কালো কালশিটেতে পরিনত হয়ে যায়।  কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এরপর মাথাব্যাথা, পেশীতে যন্ত্রনা, জ্বর ও বমি হতে পারে। চর্ম বা ত্বক অ্যানথ্রাক্স সাধারণত সংক্রমিত প্রাণী বা তাদের দূষিত কোষ বা উপাদান যেমন  চুল, চামড়া, পশম, হাড় ও ত্বকের সংস্পর্শে ঘটে।

 

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা পাচননালী অ্যানথ্রাক্স একজন সংক্রমিত পশুর মাংস খাওয়া থেকে হয়।  এর প্রাথমিক উপসর্গ হিসাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার  অনুরূপ দেখা দেয়  কিন্তু এরপর শরীর খারাপ হতে থাকে, সাংঘাতিক পেটে ব্যথা, রক্ত ​​বমি ও তীব্র ডায়রিয়া দেখা যায়।

 

 ফুসফুসঘটিত অ্যানথ্রাক্স - মানুষের অ্যানথ্রাক্স এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ধরন হল শ্বসন বা ফুসফুসঘটিত অ্যানথ্রাক্স। যদিও এটি বিরলভাবে ঘটে, বর্তমান সময়ে এই ধরনের মানুষের অ্যানথ্রাক্স সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়েছে। এই ধরনের রোগের কারণ হল যখন একজন ব্যক্তি সরাসরি অনেক সংখ্যক অ্যানথ্রাক্স স্পোর থিতিয়ে থাকা বাতাসের সংস্পর্শে আসে এবং এতে শ্বাস নেয়।  প্রথম উপসর্গ একটি সাধারণ ঠান্ডা লাগার অনুরূপ বলে মনে হয়, কিন্তু দ্রুত এটি তীব্র শ্বাস নেওয়ার অসুবিধা এবং পক্ষাঘাতে পরিনত হতে পারে।

 

তথ্যসূত্র - http://www.who.int/csr/disease/Anthrax/anthraxfaq/en/

অ্যানথ্রাক্সের কারণ হল গ্রাম পজিটিভ, দন্ড -আকৃতির ব্যাকটেরিয়া  যার নাম হল ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস, এটি একটি ক্যাপসুলের মধ্যে থাকা স্পোর তৈরি কারী ব্যাকটেরিয়া।

 

মানুষ সাধারণত সংক্রমিত প্রাণী থেকে বা পেশাগত কারনে দূষিত প্রানীজ উপাদানের সংস্পর্শের ফলে এই  রোগ অর্জন করে।  সংক্রমিত প্রাণী ব্যাসিলি শরীর থেকে বার করে দেয় টার্মিনাল রক্তক্ষরণ মাধ্যমে বা মৃত্যুর পরে রক্ত ছড়িয়ে পড়লে।  বাতাসের সংস্পর্শে,  স্পোরুলেটের অঙ্গজ  গঠন (স্পোরের একটি গঠন) তৈরি হয়। দূষিত প্রানীজ উপাদান এবং শকুন যারা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত মৃতদেহ ভোজন করে, এরাও এক এলাকা থেকে  অন্য এলাকায় জীবানু ছড়িয়ে দেয়।

 

এই রোগের জীবানুর উন্মেষকাল কয়েক ঘন্টা থেকে সাত দিন পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংস্পর্শের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এই রোগ ঘটতে পারে।

 

তথ্যসূত্র : //www.who.int/csr/disease/Anthrax/anthraxfaq/en/

পরীক্ষাগারে নিশ্চিত করা হয় যদি রক্ত, ত্বকের ক্ষত বা শ্বাসযন্ত্রের কোনো অঙ্গের নির্গমনে ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিসের উপস্থিতি পাওয়া যায়, এটি সরাসরি পোলিক্রম মিথাইল ব্লু রঞ্জিত দুটি ফিল্ম দ্বারা করা হয়। যদিও এটি দ্রুত এবং ফলাফল ২ থেকে ৩ ঘন্টার মধ্যে পাওয়া যায়, তবুওএটি বিশেষভাবে নির্দিষ্ট নয়।

 

পরীক্ষাগারে নিশ্চিতকরণ কালচারের মাধ্যমে বা মাউস, গিনিপিগ বা খরগোশের উপর  টিকার দ্বারা সম্পন্ন করা যেতে পারে।  কালচার ও সনাক্তকরণে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা সময় লাগে এবং এটি আনুমানিক নির্ণয় দেয় যেটি পলিমারেজ চেইন রিয়াকশন (পি সি আর) বা এনিম্যাল প্যাথজেনেসিটি পরীক্ষার দ্বারা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হয়।

 

পি সি আর পরীক্ষা সন্দেহভাজন ব্যাকটেরিয়া কলোনির উপর করার পরামর্শ দেওয়া হয়।  পি সি আর সরাসরি নমুনা থেকেও পরীক্ষা করা যেতে পারে।  এভাবে মোট ৩৬ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা হয়।

 

তথ্যসূত্র - http://www.who.int/csr/resources/publications/anthrax/whoemczdi986text.pdf?ua=1

অ্যানথ্রাক্স অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় ভাল সাড়া দেয়।  অ্যান্টিবায়োটিকগুলি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্ধারন ও গ্রহণ করা আবশ্যক। প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারোর নিজেদের রক্ষা করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোন ওষুধ ব্যবহার করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

 

 

তথ্যসূত্র - http://www.who.int/csr/disease/Anthrax/anthraxfaq/en/

·         চিকিৎসা না করলে চর্ম বা ত্বকের ক্ষেত্রে ২০% পর্যন্ত মারাত্মক হতে পারে।

·         গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা পাচননালী অ্যানথ্রাক্সে রক্তদূষণ, পক্ষাঘাত এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।  অন্ত্রের অ্যানথ্রাক্সের ফলে ২৫% থেকে ৬০% লোকেদের  মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

·         পালমোনারি বা ফুসফুসঘটিত অ্যানথ্রাক্সে গুরুতর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, পক্ষাঘাত এবং প্রায়ই  মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকান্ডের আচ্ছাদনে প্রদাহ) হতে পারে। পালমোনারি বা ফুসফুসঘটিত অ্যানথ্রাক্স সবসময় মারনকারী হয়।

তথ্যসুত্র - http://link.springer.com/article/10.1007/BF02723777

                  (Datta KK. Singh Jagvir, Anthrax, Indian J Pedlatr 2002; 69 (1) : 49-56)

যে সকল লোকেরা অ্যানথ্রাক্সের সংস্পর্শে এসেছে কিন্তু এখনো উপসর্গ দেখা যায় নি তাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক অ্যানথ্রাক্স  তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। যে সকল লোকেরা অ্যানথ্রাক্সের সংস্পর্শে এসেছে তাদের আবশ্যিকভাবে ৬০ দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হবে।

 

টিকা:

মানুষের জন্য টিকা - অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে করার জন্য একটি টীকা আছে, কিন্তু এটা ব্যাপক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন করা হয় না। এই টিকা কখনও কখনও এমন লোকেদের দেওয়া হয় যারা পেশাগত কারনে অ্যানথ্রাক্সের সংস্পর্শে আসতে পারেন ,যেমন, চর্মজাত দ্রব্যের শ্রমিকরা, সেনা বিভাগের লোকেরা, পরীক্ষাগারের লোকেরা যারা অ্যানথ্রাক্স নিয়ে কাজ করেন, প্রাণী বা প্রাণীজাত উপাদান নাড়াচাড়া করেন এমন লোকেরা।

অ্যানথ্রাক্স টিকা ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী লোকেদের দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।  এই লোকেদের  5টি ডোজে টিকা দেওয়া হয় (পেশীর মধ্যে): প্রথম ডোজ যখন পরে সম্ভাব্য সংস্পর্শের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়, এবং অবশিষ্ট ডোজগুলি প্রথম ডোজের পর ৪ সপ্তাহে এবং ৬, ১২, এবং ১৮ মাসে দেওয়া হয়। বার্ষিক বুস্টার ডোজগুলি বাইরে যাওয়া সুরক্ষিত করার জন্য সুপারিশ করা হয়।

 

অ্যানথ্রাক্স টিকা টিকা-না-নেওয়া লোকেদের জন্যও সুপারিশ করা হয় যারা কিছু পরিস্থিতিতে অ্যানথ্রাক্সের সংস্পর্শে এসেছে। এইসকল লোকেদের ৩ টি ডোজে টিকা দেওয়া উচিত (চামড়ার নিচে) , প্রথম ডোজ সংস্পর্শে আসার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এবং প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ দেওয়া হবে যথাক্রমে ২ এবং ৪ সপ্তাহে।

 

টিকা এই সকল ব্যক্তিকে দেওয়া উচিত নয় যাদের :

 

  •  অ্যানথ্রাক্স টিকার একটি পূর্ববর্তী ডোজ নিয়ে তীব্র এলার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে এমন লোকেদের পরের ডোজ দেওয়া উচিত হবে না।
  •  অ্যানথ্রাক্স টিকার কোনো একটি উপাদানে তীব্র এলার্জি আছে যাদের এমন লোকেদের কোনো ডোজ দেওয়া উচিত হবে না।ল্যাটেক্সে এলার্জি সহ ,যে সকল লোকেদের তীব্র এলার্জি আছে, তাদের ডাক্তারের কাছে বলা উচিত।
  • কারোর মাঝামাঝি অথবা তীব্র অসুস্থতা থাকলে। অল্প অসুস্থ লোকেদের সাধারণত টিকা দেওয়া যাবে।
  • গর্ভবতী মহিলাদের টিকা দেওয়া উচিত নয়।

প্রাণী-অ্যানথ্রাক্স টিকার টিকাকরণ  সন্দেহভাজন পশুপালের সব প্রাণীর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়, পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রানীদের এবং সকল সন্দেহভাজন প্রানীদের এই বিশ্বাস করে যে তারা রোগ কবলিত এলাকার সংস্পর্শে আসতে পারে।  এই  টীকার প্রতিরোধমূলক প্রভাব প্রায় ১ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে এবং এরফলে এনজুটিক এলাকার প্রাণীদের প্রতি বছর  টিকা দেওয়া উচিত। গর্ভবতী পশুদের টিকা দেওয়া উচিত নয়। অন্যান্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলির সাথে একসঙ্গে টিকাকরণও একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসাবে প্রয়োগ করা আবশ্যক।

 

আনুষঙ্গিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহন করা উচিত কি কাজ ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে ওই সকল লোকেদের ক্ষেত্রে যারা অ্যানথ্রাক্স মেশানো (জৈব অস্ত্র হিসাবে) সন্দেহজনক চিঠি / প্যাকেটের  সংস্পর্শে এসেছে।

তথ্যসূত্র :

www.who.int

www.cdc.gov

Datta KK. Singh Jagvir, Anthrax, Indian J Pedlatr 2002; 69 (1) : 49-56)

 

  • PUBLISHED DATE : Dec 18, 2015
  • PUBLISHED BY : Zahid
  • CREATED / VALIDATED BY : Satyabrata
  • LAST UPDATED ON : Dec 18, 2015

Discussion

Write your comments

This question is for preventing automated spam submissions
The content on this page has been supervised by the Nodal Officer, Project Director and Assistant Director (Medical) of Centre for Health Informatics. Relevant references are cited on each page.